সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ক্ষিতিশ মণ্ডল (৫২) নামে এক মাছের ঘের মালিককে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিহত ক্ষিতিশ মণ্ডল তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের জেলেপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মনীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘের পরিচালনার পাশাপাশি ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষ করতেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার ভোররাতে পার্শ্ববর্তী ঘেরের মালিক শেখ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে ক্ষিতিশকে ডেকে নেন। এরপর চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশান এলাকায় নিয়ে গিয়েও তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে স্বজনেরা দাবি করেছেন।
নিহতের ছেলে উৎপল মণ্ডল জানান, কাজের প্রয়োজনে তিনি চুয়াডাঙ্গায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকায় পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বাবার ওপর নির্যাতনের বিবরণ জানতে পারেন।
উৎপলের অভিযোগ, প্রথমে হাবিবুর রহমানের ঘেরের বাসায় তাঁর বাবাকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে চোর বলে চিৎকার করা হলে প্রাণভয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন তাঁকে আটক করে মহাশ্মশান এলাকায় নিয়ে যান।
সেখানে গাছের সঙ্গে বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন উৎপল। তাঁর দাবি, নির্যাতনের সময় ক্ষিতিশ নিজের জমি, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন। এরপরও তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়নি; বুকেও আঘাত করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ক্ষিতিশের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল ঘটনাস্থলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তিনি স্থানীয়দের সহায়তা চান। পরে দুজনের সহযোগিতায় একটি ভ্যানে করে তাঁকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। তবে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, মামলার এজাহার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন নিহতের ছেলে উৎপল মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, থানায় মামলা করার সময় পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলেও এজাহারের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের উল্লেখ করা দুটি নাম সেখানে নেই। ওই নাম দুটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দাবি জানিয়েছেন।
উৎপল বলেন, তাঁর বাবার হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি জানানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।