ব্ল্যাকবোর্ডে তখন দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ-বিয়োগের পাঠ চলছিল। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেই পাঠে যোগ দিতে হঠাৎ হাজির হন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর এমন আকস্মিক আগমন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করে।
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মো. হেদায়েত হোসেনের পরিচালনাধীন বিদ্যালয়টিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটান।
শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বোর্ডে ডেকে নিয়ে গণিতের সহজ কিছু ধাঁধা দেন। পরে শিশুদের সঙ্গে কাবাডি, লুকোচুরি, বউচি ও কানামাছিসহ গ্রামীণ খেলাধুলা নিয়ে গল্প করেন। এ সময় কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, আবার কেউ গান পরিবেশন করে। সাঁতার শেখা দুই শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা শুনেও তিনি তাদের প্রশংসা করেন।

গণিত ও সাঁতারে দক্ষতা প্রদর্শন করা চার শিক্ষার্থীর হাতে বল, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট ব্যাট উপহার দেন জেলা প্রশাসক। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের ‘জিজ্ঞাসা বক্স’ ঘুরে দেখেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের লেখা বিভিন্ন প্রশ্ন সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বিতর্ক পরিষদ ও খেলাঘরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের পরিচ্ছন্নতা এবং অভিভাবকদের বসার স্থান ‘অভিভাবক ছাউনি’ও ঘুরে দেখেন।
পরে জেলা প্রশাসক পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাসে অংশ নেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের অণু-পরমাণু, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দিলে তিনি তাদের প্রশংসা করেন।
এ সময় সেপ্টেম্বর মাসের ‘বেস্ট অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত শিক্ষার্থী সুচিত্রা রানীর সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। ভালো উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ ও নাচের দক্ষতার জন্য সুচিত্রাকে অভিনন্দন জানান তিনি। গান ও বিভিন্ন পরিবেশনায় দক্ষতা দেখানো আরও তিন শিক্ষার্থীর হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয় মাঠে স্কাউটসের কাব কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। এ সময় কাব সদস্যরা তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘গ্র্যান্ড ইয়েল’ প্রদান করে। শিশুদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের এমন ব্যতিক্রমী পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মিশে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সময় কাটানো শিশুদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও আগ্রহী করে তুলবে।