শিরোনাম
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা

সৈয়দপুরেই তৈরি হচ্ছে রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম

সৈয়দপুরেই তৈরি হচ্ছে রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর> একসময় বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম। এখন সেই পণ্যগুলোর বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলোতে। দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি এসব পণ্য ব্যবহার করে রেলওয়ে যেমন খরচ কমাচ্ছে, তেমনি বিকশিত হচ্ছে স্থানীয় শিল্প খাতও।

সৈয়দপুরে বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ও নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষিত কারিগররা। তাদের হাতেই তৈরি হচ্ছে রেলকোচ ও রেলওয়ের ব্যবহৃত প্রায় ১৬০ ধরনের সরঞ্জাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের কোচ মেরামতে ব্যবহৃত স্ক্রু লিফটিং জ্যাক আগে জার্মানি থেকে আমদানি করা হতো, যার মূল্য ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। বর্তমানে সৈয়দপুরের একটি প্রতিষ্ঠান একই পণ্য তৈরি করছে প্রায় ৫০ লাখ টাকায়। এছাড়া এমার্জেন্সি ব্রেক ভালভ, সেন্ড বক্স, কোচের ফ্যান, জানালা এবং রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল বাতিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবেই উৎপাদন হচ্ছে।

শুধু রেলওয়ে নয়, বেকারি, সাবান কারখানা, ইটভাটা এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মেশিন ও খুচরা যন্ত্রাংশও তৈরি হচ্ছে সৈয়দপুরে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমছে এবং স্থানীয় শিল্প খাত শক্তিশালী হচ্ছে।

সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ না থাকায় শিল্পটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের রপ্তানি খাতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম।

সংগঠনের সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, সৈয়দপুরের কারিগররা তাদের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে হলে উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, আর্থিক প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর