নীলফামারী সদর উপজেলাকে বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু মুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, নিকাহ রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশিরা আমাতুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নীলফামারী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার অনুকুল চন্দ্র বর্মণ।
এ সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি আব্দুর রউফ, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম ও নটখানা জামে মসজিদের ইমাম রমজান আলী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু ফোরামের সদস্য ঝুমা আক্তার ও কবীর হাসান সোহাগ।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন আয়োজক সংস্থার টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট তাহমিদুর রহমান। তিনি জানান, এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জরিপ পরিচালনা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ইউনিয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটি পুনর্গঠন এবং ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার অনুকুল চন্দ্র বর্মণ জানান, এ পর্যন্ত নীলফামারী সদর উপজেলায় ১৬টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে এবং ৫৪ শিশুকে পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই, এই উপজেলায় একটি বাল্যবিয়েও আর না হোক এবং কোনো শিশু বিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত না থাকুক। এজন্য আজ থেকে সবাইকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মুবাশিরা আমাতুল্লাহ বলেন, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকেই সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে এসব সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “আমরা আজ অঙ্গীকার করি, নীলফামারী সদর উপজেলাকে বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে শূন্যের কোটায় নিয়ে যাব।”
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, নিকাহ রেজিস্ট্রার, শিশু ফোরামের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।