ভাদ্র মাসের শুরুতেই নীলফামারীতে বেড়েছে পাকা তালের চাহিদা। শহরের বিভিন্ন মোড়, সড়কের পাশে ও গ্রামের হাটবাজারে এখন চোখে পড়ছে পাকা তালের পসরা। আকারভেদে প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১২০ টাকায়। মৌসুমি পিঠা তৈরির জন্য ক্রেতারা পাকা তাল কিনছেন। ফলে জমে উঠেছে তালের বাজার।
জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুর উপজেলায় কিছু তালগাছ থাকলেও স্থানীয় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। ফলে বাইরের জেলা থেকে পাকা তাল এনে জেলার বাজারগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও নাটোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ট্রেন ও বাসযোগে তাল সংগ্রহ করে সৈয়দপুরসহ নীলফামারীর বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসছেন।
সৈয়দপুরকে জেলার সবচেয়ে বড় পাকা তালের বাজার হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। ভাদ্র মাসে পাকা তালের রস দিয়ে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির কারণে এ সময় তালের চাহিদা বাড়ে। তালের রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া, কলা, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও ফুলুরি।
স্থানীয়দের মতে, তালের পিঠা সুস্বাদু হলেও এটি তৈরিতে বেশ শ্রম ও সময় লাগে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী অনেক পরিবারে জামাই বা স্বজনদের দাওয়াত করে তালপিঠা ও ফুলুরি খাওয়ানোর রেওয়াজও রয়েছে। তবে পাকা তালের বাড়তি দামের কারণে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ এবার তালপিঠার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গরমের মৌসুমে কাঁচা তালের শাঁসের চাহিদা থাকায় পাকা হওয়ার আগেই অনেক তাল বিক্রি হয়ে যায়। ফলে এ সময় বাজারে পাকা তালের সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা বলেন, পাকা তালে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে তাল খাওয়া খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে।
এদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন এলাকায় তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে তালগাছের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয়ভাবে পাকা তালের উৎপাদনও বাড়বে এবং বাজারের চাহিদা মেটানো সহজ হবে।