নীলফামারীর ডোমারে চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে জুনায়েদ ইত্তেসাম নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আহত জুনায়েদ ইত্তেসাম বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মিন্টুর ছেলে। তার বাবা বিজিবিতে কর্মরত। তাদের বাড়ি ডোমার উপজেলার বামুনিয়া গ্রামে। পড়াশোনার জন্য পরিবারের সঙ্গে চিলাহাটিতে ভাড়া বাসায় থাকে জুনায়েদ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে নবম শ্রেণির কক্ষে ক্লাস চলছিল। এ সময় শিক্ষিকা চন্দ্রা রানী ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ করে শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যানটি খুলে জুনায়েদের ওপর পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
.jpeg)
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
ঘটনার বিষয়ে শিক্ষিকা চন্দ্রা রানী বলেন, তিনি যথারীতি ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ ফ্যান থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান। তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার পরপরই ফ্যানটি খুলে পড়ে এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হয়। সময়মতো সতর্ক না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও জানান তিনি।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যান পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক ফ্যান ঠিকমতো কাজ করছে না। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সকেট ও সুইচবোর্ডগুলোরও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখা গেছে। এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-অভিভাবকেরা।
ক্লাস চলাকালে ফ্যান খুলে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুরোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ১৪টি কক্ষ রয়েছে। পুরোনো ফ্যানগুলো মেরামত করে চালানো হচ্ছিল। বর্তমানে সেগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত এগুলো পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক বোর্ডগুলো নিয়মিত ঠিক করা হলেও শিক্ষার্থীরা আবার সেগুলো নষ্ট করে ফেলে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী মোট ৪০টি ফ্যান প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।