নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯২ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ৩৯৩ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাজেট উপস্থাপনের পর উপস্থিত রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের বক্তব্য বা প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে অনুষ্ঠানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বাজেট উপস্থাপন শেষে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে সৈয়দপুর পৌরসভা কার্যালয়ের হলরুমে বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরে পৌর প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এতে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
অনুষ্ঠানে পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা সংক্ষেপে বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে রাজস্ব খাতে আয় ও ব্যয় উভয়ই ৩৬ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৭৬২ টাকা ধরা হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণার পর কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব বা মতবিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। জুন মাসে বাজেট ঘোষণার কথা থাকলেও অক্টোবরে তা উপস্থাপনের কারণও অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা করা হয়নি বলে তাঁরা জানান।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সৈয়দপুর পৌরসভার বাজেটের আকার ছিল ১২২ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪০ টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার কমেছে প্রায় ২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
নতুন বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৭৬২ টাকা। এর মধ্যে কর খাতে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৮ টাকা, রেট বা হার থেকে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬ টাকা, পৌর স্থাবর সম্পত্তি থেকে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পৌর সম্পত্তি থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৪ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আয় ধরা হয়েছে।
রাজস্ব খাতে সমপরিমাণ ব্যয়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৭০ টাকা, সম্মানী ভাতা ৬১ লাখ টাকা, কনজারভেন্সি মঞ্জুরি বাবদ ৭ কোটি ৩ হাজার ৭০০ টাকা, সংস্থাপন খাতে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালি পরিষ্কারে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং নিজস্ব তহবিলের উন্নয়ন খাতে ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন বলেন, “সৈয়দপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। তিনি যাওয়ার আগে বলে যেতে পারতেন। আমি পৌরসভার দীর্ঘদিনের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে অনেক গুণীজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে এভাবে অনুষ্ঠান থেকে চলে যাওয়া সৈয়দপুরের মানুষের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি মর্মাহত ও লজ্জিত।”
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।”
বাজেটের বিভিন্ন খাত, আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পাওয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।