কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, ১৩ সেপ্টেম্বর:
কুড়িগ্রামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে। পরে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে তিনি অবরুদ্ধ হন। খবর পেয়ে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
শনিবার রাতের এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা গ্রামের কেচাপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে ভেলাকোপা গ্রামের থাই মিস্ত্রি শাহীন আলম (৪৫) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম (১৭) মটর পাম্প দিয়ে পানি সেচে ছোট মাছ ধরতে যান। মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান ও স্থানীয় দুই যুবক তাজুল ও বাবু সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তুলে তাদের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরিবারের দাবি, শাহীন আলম ও তার ছেলে পুলিশের পা ধরে ক্ষমা চাইলেও তাতে সাড়া দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় দুই যুবকের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা হয়। পরদিন গাছ বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শাহীন আলমের স্ত্রী বিউটি বেগম স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের কাছে গিয়ে টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা চান। ব্যবসায়ী পরে ডিবির সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া তাজুল ও বাবুর কাছে টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে বিউটি বেগমের কান্নাকাটি ও অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
শনিবার রাত ১০টার দিকে ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি ডিবির টিমকে খবর দেন।
রাত ১১টার দিকে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল হয়। পরে অতিরিক্ত ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মেহেদি হাসানকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, অবরুদ্ধ ব্যক্তি ডিবির সদস্য মেহেদি হাসান বলে তিনি স্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।