বেসিক ব্যাংক নরসিংদী শাখায় অর্থ লেনদেন ও গ্রাহকসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই শাখা থেকে ইউসিবি ব্যাংকের চিনিশপুর শাখার একটি হিসাবে আরটিজিএসের (RTGS) মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠানোর পরও পরদিন বুধবার পর্যন্ত প্রাপকের হিসাবে টাকা জমা না হওয়ার ঘটনায় এ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী গ্রাহকের দাবি, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে তিনি বেসিক ব্যাংক নরসিংদী শাখা থেকে ইউসিবি ব্যাংক চিনিশপুর শাখার একটি হিসাবে আরটিজিএসের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠান। লেনদেনের সময় ব্যাংক থেকে টাকা ডেবিট হয়েছে বলে তাকে জানানো হলেও বুধবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রাপকের হিসাবে টাকা জমা হয়নি বলে জানা যায়।
বিষয়টি জানতে বেসিক ব্যাংক নরসিংদী শাখার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রথমে তিনি জানান, আরটিজিএস করার সময় টাকা ডেবিট হয়েছিল। পরে তিনি বলেন, এখন দেখছেন টাকা ডেবিট হয়নি। এ অবস্থায় গ্রাহককে আবার ব্যাংকে এসে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়।
গ্রাহকের প্রশ্ন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেন-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে তার দায়ভার কেন গ্রাহককে নিতে হবে এবং বিষয়টি যাচাই করতে গ্রাহককেই আবার শাখায় যেতে হবে কেন? একই সঙ্গে লেনদেনের সময় টাকা ডেবিট হয়েছে কি না—এ নিয়ে ব্যবস্থাপকের বক্তব্যে অসঙ্গতি কেন দেখা গেল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, ইউসিবি ব্যাংক চিনিশপুর শাখার ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ারও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এ ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কোথায় সমস্যা হয়েছে—বেসিক ব্যাংক থেকে অর্থ ডেবিট হয়নি, নাকি আরটিজিএস প্রক্রিয়ায় কোনো কারিগরি বা ব্যাংকিং জটিলতা তৈরি হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্যাংকিং খাতে আরটিজিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা হওয়ায় এ ধরনের ঘটনায় লেনদেনের ট্রানজেকশন রেকর্ড, ডেবিট স্ট্যাটাস, আরটিজিএস মেসেজ/রেফারেন্স নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সিস্টেম লগ যাচাই করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
এ ঘটনায় গ্রাহকের হয়রানি, ব্যবস্থাপকের বক্তব্যের অসঙ্গতি এবং ২ লাখ টাকার লেনদেনের প্রকৃত অবস্থান তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।