সাতক্ষীরায় স্থানীয় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সাতক্ষীরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভা কার্যালয়ের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন তিনি।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য সাতক্ষীরা পৌরসভায় যান হাবিবুর রহমান। পৌরসভার প্রবেশপথে হাফিজসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় দাঁতভাঙা কলেজের শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিনকে নিয়ে কেন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তার কৈফিয়ত চাওয়া হয় এবং তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে হাবিবুর রহমান পৌরসভার লাইসেন্স শাখার ১১৪ নম্বর কক্ষে গেলে হাফিজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন সেখানে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তাকে গালিগালাজের একপর্যায়ে জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং এলোপাতাড়ি চড়, কিল ও ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে তার ঘাড় ও বুকে আঘাত করার পাশাপাশি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় হাবিবুর রহমানের মুখ, ঠোঁট, ঘাড় ও বুকে জখম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, দাঁতভাঙা কলেজের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সাতনদী পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই কলেজ শিক্ষক নাসির উদ্দিনের নিকটাত্মীয় ও বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত হাফিজ তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলেজের অনিয়ম, অধ্যক্ষ পদ এবং শিক্ষক নাসির উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
হামলার পরও তাকে মামলা করা কিংবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে সংবাদ প্রকাশ করলে হত্যা, অপহরণ করে গুম ও গুরুতর জখম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরার সাংবাদিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।