সিপন আহমেদ, মানিকগঞ্জ>মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের চর শিমুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর তীররক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কে থাকা এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত নদীতীরে শ্রমিকরা নৌযান থেকে জিও ব্যাগ নামিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফেলছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মৌসুমী নাসরিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান বলেন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ভাঙনকবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী চর শিমুলিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও মোছা. মৌসুমী নাসরিন বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, মানিকগঞ্জের উন্নয়নে যেখানে যা প্রয়োজন, তা দ্রুত জানাতে। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালীগঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙনে গত কয়েক বছরে বহু বসতভিটা, আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তাঁদের ভাষ্য, জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ বা কার্যকর নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আবারও ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙনের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।