বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাসানী খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে খালে চাষ করা মাছ তুলে নেওয়ার জন্য দখলকারীদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসন দেলভাসানী খাল পুনরুদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাত, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৭ সালে খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও এরপর আর নতুন করে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবুও একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছে। এতে খালে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় কৃষিকাজ, পানি নিষ্কাশন এবং স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছ চাষকারীরা প্রশাসনকে জানান, খালে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ অপসারণ করা হলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই মাছ আহরণের জন্য তারা কিছু সময় চান।
সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাত বলেন, দেলভাসানী খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো প্রভাবশালী মহল আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ধাপে ধাপে সব অবৈধ বাঁধ ও স্থাপনা অপসারণ করা হবে। সরকারি খাল কোনোভাবেই ব্যক্তিগত দখলে থাকতে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে খালে থাকা মাছ ধরে নেওয়ার জন্য দখলকারীদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল দখলমুক্ত না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে খাল পুনরুদ্ধার করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও মাছ চাষকারীরা সম্মতি প্রকাশ করেন।