শিরোনাম
মহেশপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিহত
মহেশপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিহত

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে উপজেলার সামন্তা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইদহ ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, ভোর ৫টার দিকে সামন্তা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৬ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি বিজিবির টহল দলের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। বিজিবির অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বিজিবি জানায়, বর্তমানে ওই ৬ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মহেশপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিহত
মহেশপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিহত

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে উপজেলার সামন্তা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইদহ ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, ভোর ৫টার দিকে সামন্তা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৬ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি বিজিবির টহল দলের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। বিজিবির অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বিজিবি জানায়, বর্তমানে ওই ৬ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফর
ট্রাইব্যুনালের আদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এবং হাজতখানায় রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে।

এর আগে দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং পরে তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল ২১ জুলাই। ওইদিন প্রসিকিউশন আরও দুই মাস সময়ের আবেদন করলে, মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ না করে তাকেও বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ওই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফর
ট্রাইব্যুনালের আদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এবং হাজতখানায় রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে।

এর আগে দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং পরে তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল ২১ জুলাই। ওইদিন প্রসিকিউশন আরও দুই মাস সময়ের আবেদন করলে, মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ না করে তাকেও বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ওই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।

নতুন ভিডিও ঘিরে আবারও আলোচনায় বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
নতুন ভিডিও ঘিরে আবারও আলোচনায় বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলের লবি, করিডোর ও অন্যান্য স্থানে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে থাকা ওই নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। পরে হোটেলের লবি, করিডোর ও সিঁড়িঘরের সামনে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেল কক্ষে দেখা গেছে—এমন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওই ঘটনার পর লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মরিয়ম আক্তারের বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।

এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিও সম্পর্কে গাজী নজরুল ইসলাম বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয়ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নতুন ভিডিও ঘিরে আবারও আলোচনায় বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
নতুন ভিডিও ঘিরে আবারও আলোচনায় বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলের লবি, করিডোর ও অন্যান্য স্থানে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে থাকা ওই নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। পরে হোটেলের লবি, করিডোর ও সিঁড়িঘরের সামনে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেল কক্ষে দেখা গেছে—এমন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওই ঘটনার পর লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মরিয়ম আক্তারের বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।

এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিও সম্পর্কে গাজী নজরুল ইসলাম বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয়ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গণভোট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের কবর দেওয়া হবে: জামায়াতের আমির
গণভোট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের কবর দেওয়া হবে: জামায়াতের আমির

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদের কবর দেওয়া হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়া ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যেই তারা গণভোটের দাবি তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। তিনি বলেন, গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে কোনো চাপ বা প্রলোভনেই তারা সরে আসবেন না এবং এ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার তিস্তা নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও চলতি বাজেটে এ প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি বলেন, কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ১১ দলীয় সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণ ও বিজিবি প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম-খুন, আয়নাঘর এবং জুলাইয়ের সহিংসতাসহ আলোচিত সব ঘটনার বিচার দাবি করেন। বর্তমান সরকার তা করতে ব্যর্থ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি গণভোট বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

পাহাড়ি ঢলে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন রাঙ্গামাটি–বান্দরবান যোগাযোগ
পাহাড়ি ঢলে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন রাঙ্গামাটি–বান্দরবান যোগাযোগ

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি–বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ছড়া ও নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোতে সেতুটির একাংশ ধসে পড়ে। ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস-দুধপুকুরিয়া এলাকার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জরুরি পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিবপুরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ ২ ড্রাম ট্রাক ও ১ পে-লোডার
শিবপুরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ ২ ড্রাম ট্রাক ও ১ পে-লোডার

নরসিংদীর শিবপুরে জেলা প্রশাসনের এক বিশেষ অভিযানে মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ হওয়া দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মটর ওয়ার্কস’ গ্যারেজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া সরকারি যানবাহনগুলোর কোনো রেজিস্ট্রেশন বা নাম্বার প্লেট ছিল না। তবে মাধবদী পৌরসভার কর্মচারী বজলু, হাসান, কামাল, আল-আমিন ও শহীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়িগুলো পৌরসভার সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে গ্যারেজ মালিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকৃত যানবাহনগুলো পুনরায় মাধবদী পৌরসভায় ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারেজ মালিক তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কিছুদিন আগে মাধবদী পৌরসভার মোট চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার মেরামতের জন্য তাঁর গ্যারেজে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ড্রাম ট্রাক মেরামত শেষে ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে অবশিষ্ট দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজেই পড়ে ছিল।

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করা তাঁর একটি অনভিপ্রেত ত্রুটি ছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু
লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেলে রাতের দিকে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে দুটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা মাটিচাপা পড়েন।

নিহতরা হলেন মিশনপাড়া এলাকার মৃত আদম আলীর ছেলে মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। এছাড়া একই এলাকার আলী হায়দারের ছেলে জুয়েল (৩৫) এবং তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে মাটিচাপা অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, পাহাড়ধসে দুটি পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন নারী ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী অন্য পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে লামা উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে লামা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টিপাত এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মাধবদী পৌরসভা থেকে ২ কোটি টাকার ৫ সরকারি গাড়ি উধাও
মাধবদী পৌরসভা থেকে ২ কোটি টাকার ৫ সরকারি গাড়ি উধাও

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি গাড়ি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ যানবাহনের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত চারটি ড্রাম ট্রাক এবং রোগী পরিবহনের একমাত্র পৌর অ্যাম্বুলেন্স। একই সঙ্গে পৌরসভার ড্রাইভার কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে পৌরসভার গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ২০২১ সালে কেনা সাতটি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্যারেজে রয়েছে, তাও অকেজো অবস্থায়। বাকি চারটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও গ্যারেজে নেই।

পৌরসভার একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি ভগিরথপুর এলাকার মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তবে গ্যারেজ মালিক মনু জানান, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি তার গ্যারেজে আনা হয়েছিল। কয়েকদিন পর সেটি সাহেপ্রতাপ এলাকার নুরুল ইসলামের গ্যারেজে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে, মেকানিক নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তার গ্যারেজে মাধবদী পৌরসভার কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য আনা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় চারটি ড্রাম ট্রাক বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ড্রাইভার কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে গাড়ি মেরামতের বিল উত্তোলন করেছেন। একই সঙ্গে অন্য চালকদের পৌরসভার গাড়ি চালাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর গাড়িগুলো মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো কোথায় গেছে, তা আমি জানি না।”

এ বিষয়ে মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাব। আপনার কাছে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ বা ডকুমেন্ট থাকে, তাহলে আমাকে পাঠান।”

সরকারি সম্পদ নিখোঁজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যানবাহন উদ্ধার, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি সম্পদের হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বাণিজ্য নয়, মানবাধিকার: জুবাইদা রহমান
স্বাস্থ্যসেবা বাণিজ্য নয়, মানবাধিকার: জুবাইদা রহমান

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, তরুণদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এতে তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানে কোম্পানি গড়ে তোলা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা নয়। বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে সৃজনশীলতা, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ উদ্যোগকে কাজে লাগানোই এর মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিদ্যমান ঘাটতি চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করাও প্রয়োজন।

ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের বড় শক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। তাদের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করতে চলতি বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

গণহারে নয়, মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে সরকার
গণহারে নয়, মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে সরকার

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গণহারে নতুন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হবে না। পরিবর্তে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার বিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৮৫টি বিদ্যালয়কে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা পরিবারের বোঝা নয়, বরং রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কেউ যেন দুর্নীতির সঙ্গে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতের দুর্নীতির ঘটনাগুলোও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেশের প্রতিটি নগর ও উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ জেলা ও বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দপুরে জমজমাট লটকনের বাজার
সৈয়দপুরে জমজমাট লটকনের বাজার

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে উঠেছে মৌসুমি ফল লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জমে ওঠা এ বাজারে গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার লটকন বেচাকেনা হচ্ছে।

সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড়ের পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন সকালেই বসে এ বাজার। স্থানীয় বাগানের পাশাপাশি রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, লালমনিরহাট, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, খানসামা, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী এবং নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকা থেকে লটকন এনে এখানে বিক্রি করা হয়।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ লটকন ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরে এসব লটকন দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে, যেখানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও আড়তদার—সবাই লাভবান হচ্ছেন।

লটকন বাংলাদেশের জনপ্রিয় দেশীয় ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea sapida। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান, ডুবি, বুবি ও হাড়ফাটা নামেও পরিচিত। ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদাভ রঙ ধারণ করে। এর রসালো শাঁস হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

পাইকার আতিয়ার রহমান বলেন, “রংপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লটকন সংগ্রহ করে সৈয়দপুরে এনে বিক্রি করি। বাজারে ভালো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে।”

খুচরা বিক্রেতা রাসেল বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে কিনে প্রতি কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা লাভ হচ্ছে। মৌসুমজুড়ে ভালো ব্যবসার আশা করছি।”

সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চড়কপাড়া গ্রামের লটকন চাষি মাহবুবুর রহমান প্রিন্স বলেন, “প্রথমে শখ করে কয়েকটি গাছ লাগিয়েছিলাম। পরে চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বাগান করেছি। এখন পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”

চিকিৎসকদের মতে, লটকন ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের ভালো উৎস। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, রক্তস্বল্পতা ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পাশাপাশি কাশি, মৌসুমি সংক্রমণ ও ত্বকের যত্নেও এ ফল উপকারী।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, “লটকনের চাহিদা ও আবাদ দিন দিন বাড়ছে। এটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি দেশীয় ফল। বর্তমান বাজারদরও চাষিদের জন্য লাভজনক হওয়ায় তারা লটকন চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।”

সাতক্ষীরায় মাদক নির্মূলে মাঠে নেমেছে এলাকাবাসী
সাতক্ষীরায় মাদক নির্মূলে মাঠে নেমেছে এলাকাবাসী

সাতক্ষীরা পৌরসভার গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা পূর্বপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিন দিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর গড়েরকান্দা-ইটাগাছা সম্মিলিত জামে মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গড়েরকান্দা এলাকার আনজুয়ারা এবং ইটাগাছা পূর্বপাড়ার মাহফুজা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তারা মাদক ব্যবসা বন্ধ করেননি। বরং এর বিস্তার ঘটায় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয়দের সামনে আনজুয়ারা ও মাহফুজা তিন দিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার এবং এলাকা ছাড়ার অঙ্গীকার করেন বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় জামিরুল নামে এক ব্যক্তি মাদক কিনতে এলে তাকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর এলাকা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তিন দিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিক্ষোভে মসজিদ কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, মৎস্যজীবী দল নেতা রাজু, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, অহিদুজ্জামান, জামায়াত নেতা আফসার আলী, মাহফিজুল ইসলাম, গড়েরকান্দা মৃত্যু ফান্ডের সভাপতি বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।