শিরোনাম
আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট
আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথ সুগম হয়েছে। বহুল আলোচিত এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রিটকারীদের আপিল খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হলো।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

রায় ঘোষণার পর ড. শরীফ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির একে ‘ঐতিহাসিক রায়’ বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে এবং এটি বিলুপ্ত করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তিসংক্রান্ত ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি গণভোট বাতিলসংক্রান্ত ৪৭ ধারাও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পূর্বের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।

তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি। সংশোধনীর অন্যান্য বিধান ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ প্রয়োজন অনুযায়ী জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিমার্জন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, গণভোটের বিধান বিলোপ এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা সরকারের
মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা সরকারের

ভালো ফল করলে মিলবে বৃত্তি, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ।

 

স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন শিক্ষা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছিল। এবার আমরা ডিগ্রি বা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি যারা ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

মাধবদী পৌরসভা থেকে ২ কোটি টাকার ৫ সরকারি গাড়ি উধাও
মাধবদী পৌরসভা থেকে ২ কোটি টাকার ৫ সরকারি গাড়ি উধাও

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি গাড়ি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ যানবাহনের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত চারটি ড্রাম ট্রাক এবং রোগী পরিবহনের একমাত্র পৌর অ্যাম্বুলেন্স। একই সঙ্গে পৌরসভার ড্রাইভার কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে পৌরসভার গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ২০২১ সালে কেনা সাতটি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্যারেজে রয়েছে, তাও অকেজো অবস্থায়। বাকি চারটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও গ্যারেজে নেই।

পৌরসভার একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি ভগিরথপুর এলাকার মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তবে গ্যারেজ মালিক মনু জানান, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি তার গ্যারেজে আনা হয়েছিল। কয়েকদিন পর সেটি সাহেপ্রতাপ এলাকার নুরুল ইসলামের গ্যারেজে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে, মেকানিক নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তার গ্যারেজে মাধবদী পৌরসভার কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য আনা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় চারটি ড্রাম ট্রাক বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ড্রাইভার কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে গাড়ি মেরামতের বিল উত্তোলন করেছেন। একই সঙ্গে অন্য চালকদের পৌরসভার গাড়ি চালাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর গাড়িগুলো মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো কোথায় গেছে, তা আমি জানি না।”

এ বিষয়ে মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাব। আপনার কাছে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ বা ডকুমেন্ট থাকে, তাহলে আমাকে পাঠান।”

সরকারি সম্পদ নিখোঁজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যানবাহন উদ্ধার, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি সম্পদের হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনও অপেক্ষা
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনও অপেক্ষা

নতুন (নবম) পে-স্কেল আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একই সময়ে এ সুবিধা পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

বাজেট-পরবর্তী আলোচনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ভাতা-সংক্রান্ত সমন্বয়ও পরবর্তী সময়ে করা হতে পারে।

ফলে ১ জুলাই থেকেই পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে—এমনটি নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রে একই নীতিমালা প্রযোজ্য নয়। কেউ সরাসরি সরকারি বেতন কাঠামো অনুসরণ করেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব সার্ভিস রুলস বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

এ কারণে সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তারা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা কবে এবং কীভাবে পাবেন।

সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেলের নিশ্চিত সুবিধাভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

রংপুরে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের ৬ সদস্য আটক
রংপুরে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের ৬ সদস্য আটক

রংপুরে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর সরবরাহের অভিযোগে একটি চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার রাতে নগরীর ধাপ এলাকায় আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

আটকরা হলেন— নগরীর কামাল কাছনা চিড়ারমিল এলাকার তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার আতিকুর রহমান (৩৪) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার আশরাফুল ইসলাম (৩৬) ও হাফিজ আল মামুন (২০)।

পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে ১৫টি স্বাক্ষর করা খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি ব্ল্যাংক চেক, ৪টি মূল সনদপত্র, ৫টি মোবাইল ফোন এবং ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চক্রটি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করত। এছাড়া ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার হলে উত্তর পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করত। এসবের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, চেক ও স্ট্যাম্প গ্রহণ করা হতো।

তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, যিনি একই ধরনের অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছেন এবং বর্তমানে বরখাস্ত রয়েছেন। অপর একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। অন্যরা চক্রটির সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর
১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় প্রায় সব গ্রেডেই মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মধ্যে বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারীর মাসিক আয় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে প্রধান গ্রেডগুলোর মূল বেতন

  • গ্রেড-১ : ১,৬০,০০০ টাকা
  • গ্রেড-২ : ১,৩২,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৩ : ১,১৩,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৪ : ১,০০,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৫ : ৮৬,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৯ : ৪৫,১০০ টাকা
  • গ্রেড-১০ : ৩২,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১১ : ২৫,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১২ : ২৪,৩০০ টাকা
  • গ্রেড-১৩ : ২৪,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১৪ : ২৩,৫০০ টাকা
  • গ্রেড-১৫ : ২২,৮০০ টাকা
  • গ্রেড-১৬ : ২১,৯০০ টাকা
  • গ্রেড-১৭ : ২১,৪০০ টাকা
  • গ্রেড-১৮ : ২১,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১৯ : ২০,৫০০ টাকা
  • গ্রেড-২০ : ২০,০০০ টাকা

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রণীত এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনের দক্ষতা ও কর্মোদ্যম আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত এই পে-স্কেলকে দেশের প্রশাসনিক খাতে অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, বেতন বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, তবে এর প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে।

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই পে-স্কেল কার্যকর হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তবে বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা ও ভাতা কাঠামোর বিষয়ে সরকারের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।