শিরোনাম
যুদ্ধ থামিয়ে গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ থামিয়ে গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ করে পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ইসরায়েলের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলেও পুনর্গঠন কাজ শুরু করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে এই উদ্যোগে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে গাজায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পরিবর্তে পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শান্তি-সংক্রান্ত প্রস্তাবে ইসরায়েল সরকারের লিখিত অনুমোদনও চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

প্রস্তাবে গাজার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করার অনুমতি দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন কিংবা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ব্যাংক পুনর্গঠনে ৩৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
ব্যাংক পুনর্গঠনে ৩৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাজেটে বড় বরাদ্দ। দুর্বল ও সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৩৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ, একীভূতকরণ এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করতে ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইন ও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরেই ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণে সরকারের ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। তাই দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। নতুন এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ সরকার সরবরাহ করেছে।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার নতুন বরাদ্দকে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মূলধন জোগান নয়, সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারলেই ব্যাংকিং খাত দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।