এক মাসে একের পর এক প্রাণঘাতী ঘটনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় নরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরজুড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর শিবপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) নিহত হন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে শাকিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী ও আরেক ছেলে আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ।
এর কয়েকদিন পর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে মনি চক্রবর্তী (৪০) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। বাড়ির সামনে অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মামলাটিতে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
সেপ্টেম্বরের শেষদিকে নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় আরেকটি ঘটনায় দোকানকর্মী তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) অগ্নিদগ্ধ হন। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুধু সেপ্টেম্বরের ঘটনাই নয়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে নরসিংদীতে হত্যা, ধর্ষণের অভিযোগের পর হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, গুলিবর্ষণ, সংঘর্ষ, অপহরণ, ছিনতাই, মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে।
তবে প্রতিটি ঘটনার পেছনে কারণ ও প্রেক্ষাপট আলাদা। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা, গ্রেপ্তার ও তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তারপরও অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক প্রাণঘাতী ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকা ও বিরোধপূর্ণ ঘটনাগুলোতে আগাম নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।