শিরোনাম
নিরাপদে সরানো হলো সব রোগী

সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট

সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট

সাতক্ষীরা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালজুড়ে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। দ্রুত নিচে নামার সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের সময় ১০ তলা ভবনটিতে প্রায় ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে সিসিইউতে ৬ জন এবং ৪ জন নবজাতক ছিল। বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্মীদের সহযোগিতায় সব রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ভবনের ভেতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবন থেকে বের হওয়ার সময় রোগী ও স্বজনরা কয়েকটি কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় কাচের টুকরো মাথায় পড়ে তিনিও আহত হন। তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আটজন কর্মী ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া থাকায় উদ্ধার ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলতে থাকে। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে।

ঘটনার পর সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও বিজিবি সদস্যরা কাজ করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি প্লাটুন সদস্য উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ, রোগী সরিয়ে নেওয়া এবং হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর