শিরোনাম
শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে শেষ চারে আর্জেন্টিনা
শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে শেষ চারে আর্জেন্টিনা

টাইব্রেকারের সম্ভাবনা যখন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে হুলিয়ান আলভারেজ ও ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেজের জোড়া গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। নবম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় সুইজারল্যান্ড। কয়েকটি আক্রমণ এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত গোলরক্ষায় ব্যর্থ হলেও ৬৭তম মিনিটে ডান এনদোয়ের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে।

তবে গোলের মাত্র পাঁচ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইসরা। ফাউলের অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। ফলে শেষ সময়টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।

সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের চাপ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা মেলেনি। যোগ করা সময়ে মেসির একটি বাঁকানো শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে হুলিয়ান আলভারেজ দুর্দান্ত এক গোলে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন। এরপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেজ আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

৩-১ ব্যবধানের এই জয়ে টানা দাপট ধরে রেখে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনে মিসরকে হারিয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা
রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনে মিসরকে হারিয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিসরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় মিসর। ১৫তম মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭তম মিনিটে মোস্তাফা জিকোর গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আর্জেন্টিনার বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়।

তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ৭৯তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে। চার মিনিট পর ৮৩তম মিনিটে অধিনায়ক লিওনেল মেসি সমতায় ফেরান দলকে।

নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করলে রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। ৬১ শতাংশ বলের দখল রেখে তারা ১৭টি শট নেয়, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে মিসর মাত্র ৪টি শট নেয় এবং ২টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। পাসিংয়েও এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা; ৬০০টি পাসের ৯১ শতাংশ সফল হয়, যেখানে মিসরের সফল পাসের হার ছিল ৮৩ শতাংশ।

নাটকীয় এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত আর্জেন্টিনার
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত আর্জেন্টিনার

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে, কিন্তু প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে তাদের এমন পরীক্ষা নিয়েছে, যা সহজে ভুলতে পারবে না লিওনেল স্কালোনির দল। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরুতে প্রত্যাশামতো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায় ২৯তম মিনিটে। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২০তম গোল। পাশাপাশি টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।

প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৯তম মিনিটে রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শটে সমতা ফেরান দেরয় দুয়ার্তে।

১-১ সমতায় নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২তম মিনিটে কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফ্লিক পেয়ে দুর্দান্ত শটে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস।

তবে কেপ ভার্দে দ্রুতই জবাব দেয়। ১০৩তম মিনিটে সিডনি কাবরালের অসাধারণ বাঁকানো শটে আবারও সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ১১১তম মিনিটে আসে ভাগ্যনির্ধারণী মুহূর্ত। মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে গেলেও আর সমতা ফেরাতে পারেনি কেপ ভার্দে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ আর্জেন্টিনাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।

শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের অসাধারণ লড়াইয়ের জন্য।

আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসর।