শিরোনাম
১৩ মাস কারাভোগের পরও মুক্তি নয়

নতুন হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে

নতুন হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে

দীর্ঘ ১৩ মাস কারাগারে থাকার পর তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও মুক্তি মিলল না সাতক্ষীরা-সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতির। নতুন একটি হত্যা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৪ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর আগে অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন লায়লা পারভীন সেঁজুতি। পরদিন তাকে সদর থানার জিআর-৭৭/২৫ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জিআর-৯৬/২৫ মামলাসহ আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুটি এবং সম্প্রতি আরেকটি মামলায় তিনি জামিন পান।

লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ বলেন, কারামুক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। নতুন মামলায় জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করে, প্রায় এক বছর এক মাস ধরে কারাগারে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময় পর তাকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তার নাম নেই, তার বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ অভিযোগ বা স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও নেই। একই মামলার এজাহারভুক্ত ও অন্যান্য আসামিরা জামিনে থাকলেও তাকে জামিন দেওয়া হয়নি।

নতুন মামলাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের বাসিন্দা পারুল বেগম আদালতে দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে সদর থানাকে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দিবাগত রাতে ৪৭ জন নামীয় ও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর স্বামী অহেদ আলীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মামলায় সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতির পাশাপাশি তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিবির ওসি, সদর থানার তৎকালীন ওসিসহ মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় প্রভাবশালীদের কারণে আইনগত প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অন্যদিকে, লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবীদের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। তারা উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর