শিরোনাম

ছাগলের গাড়ি বানিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শৈলকুপার নজরুল ইসলাম

ছাগলের গাড়ি বানিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শৈলকুপার নজরুল ইসলাম

গাড়ির চালক ছাগল, আর যাত্রী আসনে বসে আছেন মানুষ—দৃশ্যটি অবাক করার মতো হলেও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এখন এটাই বাস্তব। উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম লষ্কর নিজের শখ ও প্রয়োজন থেকে তৈরি করেছেন ছাগল দিয়ে টানা একটি ছোট গাড়ি। অভিনব এই বাহন দেখতে প্রতিদিনই তার বাড়ি ও আশপাশে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

দুই পাশে সাইকেলের চাকা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে গাড়িটির কাঠামো। লোহার রড দিয়ে তৈরি মূল অংশের ওপর রয়েছে বসার জন্য ছিট। সামনের দিকে ছাগলটি যুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রশির মাধ্যমে ছাগলকে গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত করার পর সেটি টেনে নিয়ে যায় পুরো গাড়িটি। প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় এক ওয়েল্ডিং মেকানিকের সহযোগিতায় গাড়িটি তৈরি করেন নজরুল ইসলাম।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কর্মসূত্রে থাইল্যান্ডে থাকার সময় কুকুর দিয়ে গাড়ি টানার দৃশ্য নজর কাড়ে নজরুল ইসলামের। সেখানে নারীদের বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে এ ধরনের বাহন ব্যবহারের দৃশ্য দেখেন তিনি। পরে মালয়েশিয়াতেও একই ধরনের বাহন দেখতে পান। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশে ফিরে নিজের মতো করে একটি ব্যতিক্রমী গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন। তবে কুকুরের পরিবর্তে ছাগলকে গাড়ির বাহন হিসেবে বেছে নেন তিনি।

নজরুল ইসলাম জানান, নিজের বাগান ও ঘের দেখাশোনার কাজে তিনি মাঝেমধ্যে এই গাড়ি ব্যবহার করেন। তার পালন করা প্রায় ১০টি ছাগলের মধ্যে একটি ছাগলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সখ্য রয়েছে। সেই ছাগলটিই এখন গাড়িটি টেনে নিয়ে যায়। তার দাবি, ছাগলটি তার সঙ্গে অভ্যস্ত এবং গাড়ি টানার সময় কোনো ধরনের জোর প্রয়োগ করতে হয় না।

নজরুল ইসলাম লষ্কর বলেন, “এই ছাগলটির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বলে বোঝানোর মতো নয়। ও আমার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। নিজের ইচ্ছাতেই গাড়ি টানে। এতে ওর কোনো কষ্ট হবে না—এমনভাবেই গাড়িটি তৈরি করেছি। মূলত বাগান ও ঘের দেখাশোনার জন্যই গাড়িটি বানানো।”

তিনি বলেন, বিদেশে থাকার সময় কুকুর দিয়ে গাড়ি টানার দৃশ্য দেখেই তার মাথায় এমন একটি বাহন তৈরির চিন্তা আসে। দেশে ফেরার পর সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেন তিনি।

নজরুল ইসলামের মেয়ে বলেন, “বিদেশে থাকার সময়ই আব্বুর এই গাড়ি তৈরির শখ হয়েছিল। এতদিন পর তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এতে আমরা খুবই খুশি। অনেকে হয়তো নানা মন্তব্য করবেন, তবে আব্বু ছাগটির খুব যত্ন নেন।”

ব্যতিক্রমী এই গাড়ি এখন বিজুলিয়া গ্রামের মানুষের কৌতূহলের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ গাড়িটি দেখতে তার বাড়িতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার গাড়িতে উঠে এর অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বাংলাদেশে এর আগে তারা এমন দৃশ্য দেখেননি। ছাগল দিয়ে গাড়ি টেনে নেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে যেমন বিস্ময়ের, তেমনি আনন্দ ও কৌতূহলেরও।

নজরুল ইসলামের শখ থেকে তৈরি ছোট্ট এই বাহন তাই এখন শুধু তার ব্যক্তিগত যাতায়াতের মাধ্যম নয়; বিজুলিয়া গ্রামের মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক আকর্ষণের কেন্দ্র।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর