দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে সাতক্ষীরায়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ফিতা কেটে ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তসহ স্থানীয় কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধন শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
এবারের মেলায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কজুড়ে ১৬০টির বেশি স্টল বসেছে। এসব স্টলে মনোহারি পণ্য, লৌহজাত দ্রব্য, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, শিশু ট্রেন ও নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০ দিন মেলা চলবে।
মেলার নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ বলেন, মেলার শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্টলে বাধ্যতামূলকভাবে ডাস্টবিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করবে।
তিনি সাতক্ষীরাবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে উৎসব উপভোগের আহ্বান জানান।
.jpeg)
জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি ও জুয়া বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা চলাকালে সার্কাস প্যান্ডেল ও শহরের রকসি সিনেমা হলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন বলে স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন মেলার আয়োজন বন্ধ বা সীমিত থাকায় এর ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ব্যাহত হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর মেলা আবারও আয়োজিত হওয়ায় বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতি বছর ভাদ্র সংক্রান্তিতে গুড়পুকুর পাড়ে মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও প্রথা অনুযায়ী মনসা পূজা সম্পন্ন হওয়ার পর মেলার আয়োজন করা হয়েছে।