সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাদক কিনতে আসার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাঁদের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ধুলিহর ইউনিয়নের মালীর মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দুটি বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিংড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের ফটিক ফকিরের ছেলে ফজর আলী ও আইয়ূব আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার রাতে দুই ব্যক্তির বাড়িতে কয়েকশ মানুষ গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় দুই যুবক গাঁজা কিনতে এলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের মকবুল জমাদারের ছেলে খুরশিদ আলমকে টর্চের আলো দেখানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর পরদিন শনিবার সন্ধ্যার পর প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ ফজর আলী ও আইয়ূব আলীর বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফজর আলীর স্ত্রী মমতাজ খাতুন অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জেরে লোকজন তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ঘর থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, গাঁজা কিনতে আসার অভিযোগে আটক দুই যুবক হলেন—কাশীনাথপুর গ্রামের সুজয় সরকারের ছেলে তপন সরকার (২৭) ও দৌলতপুর গ্রামের বিশ্ব সরকারের ছেলে সাগর সরকার (২৩)। স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে রাখার পর ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দুই যুবক গাঁজা কিনতে এসেছিলেন—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে রাখে। পরে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয়। তাঁদের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের কথা জানান তিনি। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মাদক কেনাবেচার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।