শিরোনাম
শিক্ষক বিল্লাল হোসাইনের মৃত্যুর রহস্য

সুইসাইড নোট প্রকাশের দাবি, তদন্তে স্বচ্ছতা চায় পরিবার ও স্থানীয়রা

সুইসাইড নোট প্রকাশের দাবি, তদন্তে স্বচ্ছতা চায় পরিবার ও স্থানীয়রা

নরসিংদীর শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসাইনের (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিন পার হলেও রহস্যের জট কাটেনি। এদিকে তার রেখে যাওয়া কথিত সুইসাইড নোট প্রকাশের দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, চিরকুট প্রকাশ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিবপুর উপজেলার কলেজ গেইট স্কুলসংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু টানাপোড়েন তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, "সুইসাইড নোট প্রকাশ হলেই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হতে পারে। তদন্তে যদি আমার বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি বিভিন্ন সূত্রে শুনেছেন যে বিল্লাল হোসাইন ভাড়া বাসার নিচতলার এক নারীর নামে ৪ লাখ টাকার এফডিআর করে গেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো নথিপত্র দেখেননি এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
নিহতের ছেলে আবদুল্লাহ আল সিয়াম বলেন, "আমরা বাবার লেখা সুইসাইড নোটে কী আছে তা জানতে চাই। বাবা প্রায়ই বলতেন, এই স্কুলে শিক্ষকতা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।"
এ বিষয়ে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, তদন্ত চলমান থাকায় সুইসাইড নোটের বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থেই বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর