শিরোনাম

যৌতুকের দাবিতে তমা হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে তমা হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তমা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া পলাতক ছিলেন। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার লাহারিকান্দা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুল হক জানান, বিয়ের পর থেকে ইজিবাইক কেনার জন্য স্ত্রী তমা খাতুনের কাছে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন জনি মিয়া। দরিদ্র পরিবারটি ওই টাকা দিতে না পারায় তমার ওপর নির্যাতন চালানো হতো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ সকালে বাজার করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জনি মিয়া ও তাঁর মা তমাকে ঘরের ভেতরে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তমার মরদেহ ওড়না দিয়ে ঘরের চালের ধনার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ফজলুল হক আরও জানান, প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর নিহত তমার মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে জামালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত এ রায় দেন। রায়ে প্রধান আসামি জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচার চলাকালে আরেক আসামির মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর