শিরোনাম

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
বাসস

ধর্মীয় পরিচয় নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আসনটির আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ করা সম্ভব হয়েছে, সরকার তা করেছে। আরও কিছু বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির সংকটময় মুহূর্তে যখন ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তখন অন্যান্য ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশ স্বাধীন করা থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই মানুষ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান ও হিন্দু—উভয় সম্প্রদায়ের কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাঁকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। সেই অবস্থান থেকে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিককে তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করাই তাঁর দায়িত্ব বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে তাঁরা ভুল করেননি বলে মনে করছেন উল্লেখ করে নেতারা সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর