কুষ্টিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১৪টি ডিলারশিপের সবগুলোই অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার জগতি চিনিকল গেটে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জামায়াত আয়োজিত সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন আমির হামজা।
তিনি বলেন, “জানতে পেরেছি, প্রত্যেকটা ডিলারের কাছ থেকে অন্তত ১০ লাখ, ১২ লাখ, ১৫ লাখ পর্যন্ত টাকা নিয়ে এগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। আমাদের আইওয়াশ করা শুধু। আমার আসনে, আমার সদরে ১৪টা ডিলার আছে। ১৪ টাই বিক্রি হয়ে গেছে।”
আমির হামজা আরও বলেন, ডিলার নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা সভাপতির ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা উপদেষ্টা হিসেবে থাকলেও এ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত সভায় জামায়াতে ইসলামীর তিন সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ধরনের অনিয়মের কারণে ভবিষ্যতে সারের সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আমির হামজা। তাঁর দাবি, ডিলার নিয়োগে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলে সংশ্লিষ্টরা সেই টাকা পুষিয়ে নিতে সারের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।
সারের বিষয়ে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি আসবে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল গফুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. এনামুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মো. খাইরুল ইসলাম রবিন, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, সুগার মিল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম মালিথা ও সাধারণ সম্পাদক মীর শাহাবুর রহমান খয়বারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে জগতি চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। এতে জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আখচাষি কল্যাণ সমিতি, চিনিকলের সিবিএ এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।