শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই নীলফামারীজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেবী দুর্গাসহ অন্য প্রতিমাগুলোতে শেষ মুহূর্তের রং ও তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির জেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীর ছয় উপজেলায় প্রায় ১ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সদর উপজেলার দেবীর ডাঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন মণ্ডপে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। খড়, মাটি ও কাদামাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলোর অবয়ব তৈরির কাজ শেষ করে এখন রং, নকশা ও অলংকরণের কাজে ব্যস্ত তারা। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাতেও দেওয়া হচ্ছে শেষ তুলির আঁচড়।
সদর উপজেলার দেবীর ডাঙ্গা পূজা মণ্ডপে এবার প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার একটি বড় প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ ও আকর্ষণীয় উচ্চতার কারণে প্রতিমাটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সম্প্রীতির পরিবেশে উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা তাদের।
নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু সুভাষ বিশ্বাস বলেন, প্রশাসন ও পুলিশের সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে উৎসবের পরিবেশ ভালো রয়েছে। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিশ। নীলফামারীর পুলিশ সুপার ফারহাদ হোসেন খান জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যদেরও দায়িত্বে রাখা হবে।
উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, সাজসজ্জা আর ঢাকের বাদ্য যেন জানান দিচ্ছে—দুয়ারে কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।