শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শ্যামনগরে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ

শ্যামনগরে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ
ফাইল ছবি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর নানী। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর নানী বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন উপজেলার গুমানতলী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলম (৩৫) এবং একই এলাকার দুই কিশোর হযরত (১৭) ও আবু হাসান (১৪)। তারা দুজনই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। তার মা বর্তমানে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করেন তার নানী। পরে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুই কিশোর আসামি ভুক্তভোগীর ভাইয়ের পরিচিত হওয়ায় তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। এ সুযোগে গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক নূর আলম গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়ানোর সময় খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মিশিয়ে শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষক নূর আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে নূর আলমের স্ত্রী জেসমিন বেগম দাবি করেছেন, স্থানীয় বিরোধ বা মনোমালিন্যের কারণে তার স্বামীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়ে থাকতে পারে।

গুমানতলী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, সহকারী শিক্ষক নূর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম জানান, বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর