শিরোনাম
টয়লেটে পানি ঢেলে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা

রিসোর্টে আগুনে প্রাণ গেল ১০ জনের

রিসোর্টে আগুনে প্রাণ গেল ১০ জনের
ছবি প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিসোর্টের একটি টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা টয়লেটে পানি ঢেলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) রয়েছেন। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন কর্মীরা। প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে নিহত সবাই পর্যটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবার বিষয়ে নিশ্চিত হতে খোঁজখবর চলছে।

রিসোর্টে ছিলেন ১৬ পর্যটক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিনটি কক্ষের অতিথিরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ১৬ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।

সকালে আগুন লাগার পরপরই পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর