শিরোনাম

রায় কলেজের পক্ষে, তবু ৭ বছরেও অবমুক্ত হয়নি জমি

রায় কলেজের পক্ষে, তবু ৭ বছরেও অবমুক্ত হয়নি জমি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত জমি অবমুক্তির বিষয়ে আদালতের রায় ও ডিক্রি থাকলেও সাত বছর ধরে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা এবং বিভিন্ন শর্তের কারণে জমি অবমুক্তির কার্যক্রম আটকে আছে বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দীন। এ অবস্থায় আদালতের রায় কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ দাবি করেছে কলেজ প্রশাসন।

২০১৯ সালে কলেজের পক্ষে রায়

আদালত থেকে সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, কলেজের জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির দাবিতে ২০১৩ সালে ১০৩২ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। নোয়াখালীর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল ও যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলাটির বিচার করেন বিচারক নাসরিন জাহান। পরে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি আদালত কলেজের অনুকূলে রায় দেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য, দাখিল করা দলিলপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন। আরজিতে উল্লিখিত জমি কলেজের অনুকূলে বাধাহীনভাবে অবমুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রায়ের অনুলিপি নোয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর নির্দেশনাও ছিল।

বৈধ দলিলে জমি অর্জনের দাবি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া মৌজার বিভিন্ন দাগের জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পূর্ববর্তী মালিকদের কাছ থেকে বৈধ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় ও হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে জমিগুলো তৎকালীন বসুরহাট কলেজের নামে অর্জিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি মুজিব কলেজ এবং বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ নামে পরিচিতি পায়।

নথিতে ১৯৭০ সালের ১২ জানুয়ারির ১৯১ নম্বর দলিল এবং ১৯৭৩ সালের ২৬ জুলাইয়ের ৩৫০৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিলসহ একাধিক দলিলের উল্লেখ রয়েছে। জমির বিভিন্ন জরিপের খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জমির পরিমাণ নিয়ে নথিতে অসংগতি

জমি অবমুক্তির বিষয়টি নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে জমির পরিমাণ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে। সরবরাহ করা নথির একটি বিবরণে বিভিন্ন দাগে মোট ৬০ শতক জমি অবমুক্তির দাবির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪০১, ১৪০৯, ১৪১০, ১৪১৬, ১৩৯৯, ১৩৯০, ১৩৯১, ১৩৯৫, ১৫৫২ ও ১৫৫৩ নম্বর দাগ রয়েছে। তবে নথির অন্য একটি বিবরণে জমির পরিমাণ ৫৩ শতক উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় জমির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে অসংগতি দূর করতে আদালতের মূল রায়, ডিক্রি ও মামলার তফসিল যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট নথির বিবরণ থেকে প্রতীয়মান হয়।

প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগ অধ্যক্ষের

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দীন অভিযোগ করেন, আদালতের রায় ও ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও জমি অবমুক্তির বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে বলে দাবি তাঁর।

অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও সামনে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শর্তের কারণে অবমুক্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের দায়িত্বের কথা বলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

দ্রুত নিষ্পত্তি চায় কলেজ কর্তৃপক্ষ

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের মূল রায় ও ডিক্রির আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে জমি অবমুক্তির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা, দাগ-খতিয়ান, প্রকৃত পরিমাণ এবং বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমস্যাটির নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন ধরে জমি অবমুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় কলেজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, জমির পরিমাণসংক্রান্ত অসংগতি নিরসন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর