পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই দুই যুবদল নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের সিনেমাহল মার্কেট ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৃথকভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরান ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ আহত হয়েছেন।
আহত দুজনই পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার রাতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকরা। পরে তাঁরা শহরের সিনেমাহল মার্কেটে চা খেতে গেলে নওশাদ জমিরের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আরিফুল ইসলাম ইরানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পেটে আঘাত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, পঞ্চগড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে হামলার শিকার হন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। তাঁর অভিযোগ, অপরপক্ষের নেতাকর্মীরা তাঁকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। পরে তাঁকেও পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, “আরিফুল ইসলাম ইরান নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর পেটের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরান বলেন, “আমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমাহল এলাকায় চা খেতে গিয়েছিলাম। এ সময় ময়নুল ইসলাম, দীপু ও তাঁদের সহযোগীরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।” তিনি হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান। তিনি বলেন, “ইরান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিচ্ছেন। এর প্রতিবাদে আমরা দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি। তবে ইরান ও হারুনের ওপর কারা হামলা করেছে, তা আমরা জানি না।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার সকালে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। এরই জেরে ওই রাতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে জানা গেছে।