শিরোনাম

শিক্ষক দিবসে ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে অসুস্থ, হাসপাতালে মারা গেলেন প্রধান শিক্ষক

শিক্ষক দিবসে ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে অসুস্থ, হাসপাতালে মারা গেলেন প্রধান শিক্ষক

শিক্ষক দিবসে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছিলেন পঞ্চগড়ের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর আজম (৫৬)। হাসিমুখে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফুল গ্রহণের কিছুক্ষণ পর পাশের একটি দোকানে চা খেতে বসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দিনের মতো নুর আজম সকাল ৯টার আগেই বিদ্যালয়ে আসেন। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। তিনি হাসিমুখে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফুল গ্রহণ করেন। পরে বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে চা খেতে বসলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, সকালে স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধান শিক্ষককে ফুল দেয়। পরে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে চলে যান। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পাশের দোকানে চা খেতে বসে প্রধান শিক্ষক বুকে ব্যথা অনুভব করছেন বলে খবর পান তারা। পরে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক তাঁকে ইজিবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে সহকর্মীরা তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

আরেক সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, নুর আজম তাঁদের অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী ছিলেন। সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল পাওয়ার কথা তিনি হাসিমুখে সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর রক্তচাপ পাচ্ছিলেন না। পরে ইসিজি করার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, নুর আজমকে জরুরি বিভাগে আনার পর তাঁর রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। পরে ইসিজি করে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাঁর ধারণা, শিক্ষক নুর আজম গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।

সহকর্মীরা জানান, নুর আজম আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

নুর আজম মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর ২০১২ সালে মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক দিবসের দিনেই প্রিয় শিক্ষককে হারানোর ঘটনায় সহকর্মীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সোমবার রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নুর আজমকে দাফন করার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর