জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে ঘরের ভেতর প্রায় সাত ফুট গভীর গর্ত পাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শয্যাশায়ী বাবা আব্দুস সালাম অভিযোগ করেছেন, তাকে মাটিচাপা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ছেলে ওই গর্ত খুঁড়েছেন।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে পরিবারের এক স্বজন ঘরের দরজা খুলে প্রায় পাঁচ ফুট প্রস্থ ও সাত ফুট গভীর একটি গর্ত দেখতে পান। এ সময় ঘরের পাশে মাটিভর্তি কয়েকটি বস্তা ও কাদামাটির স্তূপও পাওয়া যায়।
আব্দুস সালাম জানান, পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকে কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। তার বড় ছেলে মোস্তাকিম তার দেখাশোনা করতেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে মোস্তাকিম ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে যাতায়াত করছিলেন এবং বালতিতে করে মাটি বাইরে ফেলছিলেন। এতে তার সন্দেহ হলে এক স্বজনকে দিয়ে ঘর খুলে দেখেন ভেতরে বড় একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী মোস্তাকিমকে আটক করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করার জন্য তাকে নিয়ে যান।
তবে বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন, তার ভাই মাদকাসক্ত হলেও বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ত খুঁড়েছেন—এ অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আব্দুস সালাম জানান, তিনি বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুল করিম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে মৌখিকভাবে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।