নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি গাড়ি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ যানবাহনের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত চারটি ড্রাম ট্রাক এবং রোগী পরিবহনের একমাত্র পৌর অ্যাম্বুলেন্স। একই সঙ্গে পৌরসভার ড্রাইভার কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে পৌরসভার গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ২০২১ সালে কেনা সাতটি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্যারেজে রয়েছে, তাও অকেজো অবস্থায়। বাকি চারটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও গ্যারেজে নেই।
পৌরসভার একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি ভগিরথপুর এলাকার মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তবে গ্যারেজ মালিক মনু জানান, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি তার গ্যারেজে আনা হয়েছিল। কয়েকদিন পর সেটি সাহেপ্রতাপ এলাকার নুরুল ইসলামের গ্যারেজে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
অন্যদিকে, মেকানিক নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তার গ্যারেজে মাধবদী পৌরসভার কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য আনা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় চারটি ড্রাম ট্রাক বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ড্রাইভার কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে গাড়ি মেরামতের বিল উত্তোলন করেছেন। একই সঙ্গে অন্য চালকদের পৌরসভার গাড়ি চালাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর গাড়িগুলো মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো কোথায় গেছে, তা আমি জানি না।”
এ বিষয়ে মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাব। আপনার কাছে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ বা ডকুমেন্ট থাকে, তাহলে আমাকে পাঠান।”
সরকারি সম্পদ নিখোঁজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যানবাহন উদ্ধার, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি সম্পদের হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।