শেরপুরের নকলা উপজেলার দক্ষিণ নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার চার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে একটি মসজিদের মক্তবেই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, নকলা উপজেলার ৮ নম্বর চর অষ্টধর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে পাশের একটি মসজিদের মক্তবে অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৫০ থেকে ৬০ জনে নেমে এসেছে। একটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। প্রতিদিন মসজিদের সামনেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি খালেক মিয়া বলেন, "প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল কয়েক মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয় পরিচালিত হবে। কিন্তু চার থেকে পাঁচ বছর ধরে মসজিদের মক্তবেই পাঠদান চলছে। এতে মক্তবের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাশের একটি বাড়ির জঙ্গলসংলগ্ন খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে হয়।
নকলা সরকারি হাজী জালমামুদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শরিফ আহমেদ খান বলেন, চার বছর ধরে মসজিদের মক্তবে পাঠদান চললেও স্থায়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মসজিদের অজুখানার পানি পান করতে হচ্ছে।
নকলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন সভায়ও আলোচনা হয়েছে, তবে বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য তারা প্রায় ৬০ শতাংশ জমি দান করেছেন। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দক্ষিণ নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিগগিরই প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।