নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ২২টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন শিক্ষক। ফলে প্রায় ৯ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি সরকারি হয়। তবে জাতীয়করণের পরও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের আগস্টে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও অবসরে যাচ্ছেন, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, ক্রীড়া ও হিন্দু ধর্ম বিষয়ে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সম্মানী দিতে গত বছর শিক্ষার্থীপ্রতি এক হাজার এবং চলতি বছর ৭০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে অর্থ নেওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন রিকাবদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকদের বিরতিহীনভাবে একাধিক ক্লাস নিতে হচ্ছে। অনেক সময় নিজ বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়ও পড়াতে হচ্ছে, ফলে পাঠদানের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত শূন্য পদে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
এদিকে চতুর্থ শ্রেণির ৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষক সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনজুর এলাহীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।