মালামাল গ্রহণের আগেই প্রায় ২৩ লাখ টাকার বিল পরিশোধ, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সি-বাস (Seabass) প্রকল্পের আওতায় ফিশ ফিড ও জীবন্ত সি-বাস ফিঙ্গারলিং কেনার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান না করে পরিকল্পিতভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানকে "একমাত্র সরবরাহকারী" দেখিয়ে ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) ব্যবহার করা হয়। যদিও একই ধরনের পণ্য সরবরাহে সক্ষম একাধিক প্রতিষ্ঠান দেশে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, "Supply of Feed for the Initial Pilot Project of Seabass Farming" শীর্ষক ক্রয়ে এটিআই লিমিটেড এবং "Supply of Live Seabass Fingerlings" শীর্ষক ক্রয়ে দেশ বাংলা এসপিএফ হ্যাচারিকে একমাত্র উৎস হিসেবে দেখানো হয়। পরে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন, নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ), সরবরাহ এবং বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যা পুরো ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ।
প্রায় ২৩ লাখ টাকার মালামাল গ্রহণের আগেই কীভাবে সরকারি অর্থ ছাড় করা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদ প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আসলে এসনটি নয়।
পরে ক্রয়কৃত মালামাল দেখাতে অনুরোধ করা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তাঁর দাবি, সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেই রাখা হয়েছে।মহাপরিচালক এক পর্যায়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "এ পদে আমার আর মাত্র ছয় মাস মেয়াদ আছে। এ সময়ের মধ্যে আমি ভালো কিছু করে যেতে চাই। আমাকে এই দুঃসময়টা পার করার সুযোগ দেন।"
এনআইবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রভাবে মহাপরিচালক সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এনআইবি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১টা ৫ মিনিটে মহাপরিচালক অফিসে প্রবেশ করেন। একই দিন দুপুর ৩টা পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম এবং ঊর্ধ্বতন উচ্চমান হিসাব রক্ষকণ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
পরে শনিবার বিকেলে মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মালামাল ক্রয় ও বিল পরিশোধের বিষয়ে মন্তব্য না করে কয়েক দিন পর মালামাল দেখাতে পারবেন বলে জানান এবং প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্রয় মূল্যায়ন কমিটিতে মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সরকারি ক্রয়বিধির শর্ত পূরণ না করেই ডিপিএম পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি, সমাপ্ত প্রকল্পের সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, পছন্দের ব্যক্তিদের গবেষণা ফেলো হিসেবে নিয়োগ এবং কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোকে গুরুতর উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং মালামাল গ্রহণের আগেই বিল পরিশোধের বৈধতা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রকল্পের সাবেক পিডি ড. জাহাঙ্গীর আলাম ও ডিপিডি ড. আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে জাতীয় জীন প্রকল্পের ৫শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এমন দুর্নীতির খবরে স্তব্ধ এনআইবি।