বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজল মোল্লার বাড়ি এবং ভরচ্ছন্ন এলাকার নান্না মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হাওলাদার বলেন, অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পায়নি।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ না থাকায় টিনের ঘর পুড়ে গেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে শনিবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলা এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ মাইক্রোবাস ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উজিরপুর উপজেলার আলামদী গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে সজল মোল্লা ও শামীম মোল্লা, মোবারক মোল্লার ছেলে তরিকুল ইসলাম, মুলাদী থানার দড়িচর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে সোহাগ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জাহিদ শেখের ছেলে সাগর শেখ, গোপালগঞ্জের ভুমদিয়া গ্রামের হাচান শেখের ছেলে হাসিব শেখ ও হাবিব শেখ, বরগুনার পাথরঘাটার মানিকখালী গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে মাহাবুবুর রহমান এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার বাটামারা গ্রামের লোকমান হাকিমের ছেলে শরীফ হোসেন।
কাওসার হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে তাঁর মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের ভাষ্য, তুচ্ছ ঘটনা ও ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় আহত ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ আমিনের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চলছিল। এর প্রতিবাদ করায় কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।