বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সদস্য ও এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলে। পরে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মিরাজুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান (২৬) ও ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)। অভিযানে বড় কোনো মাদকের চালান উদ্ধার না হলেও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযান চলাকালে এএসআই দেলোয়ার হোসেন বাসাটির টিন ভেঙে লাফ দিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কাদামাটিতে পড়ে গেলে ডিএনসি সদস্যরা তাকে আটক করতে গেলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিরাজুল ইসলামের কোনো দলীয় পদ না থাকলেও তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে এএসআই দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএনসি সূত্র আরও জানায়, আটক এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে ডিএনসির উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে তার জিম্মায় নিয়ে গেছেন।