মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের রামদিয়া কবরস্থানের উন্নয়নকাজ নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দারা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাদ জুমা রামদিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা। একই সঙ্গে অনলাইন থেকে সংবাদটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা জমির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটিতে মোশাররফ হোসেনের কোনো পদ নেই। অথচ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে প্রকল্পের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মোশাররফ হোসেন বলেন, রামদিয়া মসজিদ ও কবরস্থানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনুদান দিয়েছেন। তবে পরিচালনা কমিটিতে তাঁর কোনো পদ নেই। এরপরও প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে কারও ইন্ধনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গত ৪ নভেম্বর দৈনিক সরেজমিন-এর অনলাইন সংস্করণে ‘ঘিওরে কবরস্থানের কাজ না করেই ৫ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় রামদিয়া কবরস্থানের মাটি ভরাট ও উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ করা পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় আওয়ামী কৃষক লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, মেসার্স পাপিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কবরস্থানে মাটি ভরাটের কাজ পায়। কবরস্থানে ট্রাক প্রবেশের রাস্তা না থাকায় প্রায় ৮০০ ফুট দূর থেকে জমির মাটি কিনে শ্রমিকদের মাধ্যমে কেটে এনে ভরাটের কাজ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় বিল আটকে রেখে ঠিকাদারকে আরও মাটি ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, কাজের অগ্রগতি যাচাই করে বিল আটকে রাখার পরও কীভাবে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে?
মানববন্ধনে মো. তৈয়ব উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম ভুট্টু, উজ্জ্বল মিয়া, আরিফ মিয়া, টিপু, আব্দুর রহিম মিয়া, মিলন মিয়া, সুমন, ইমন, রিমন, লিটন, জিল্লুর রহমান, ওহাব খান, সম্রাট, বশির, খলিল ও শ্রাবণসহ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।