শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ বিকাশে বিশেষ অবদান রাখায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চারটি ক্যাটাগরিতে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। গণসাক্ষরতা অভিযান ও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা-পাসা যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন—সুরেন্দ্র কুমার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রুহুল আমীন মিয়া, খাবাশপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, মানিকগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিষয়ের ইন্সট্রাক্টর আবীর হাসান মুকুল, ইলেকট্রনিক বিষয়ের ইন্সট্রাক্টর দেবাশীষ সরকার, মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, চান্দি গোলড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলেয়া বেগম, গড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার এবং জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস এম রাব্বি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি নাসরিন। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, পাসার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ খান, গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রতিনিধি কামরুন্নাহার কলি, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না; শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষকদের চিহ্নিত করে নিয়মিত সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া প্রয়োজন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যই একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন। তবে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ ধরনের সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তাঁদের উৎসাহ জোগাবে।
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে তাঁদের ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।