জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মসজিদের মকতবে আরবি পড়তে যাওয়া এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মুছা মিয়া ওরফে মুছা হুজুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়া (২৭) গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার হরিচণ্ডী গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি গ্রাম্য জামে মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি শিশুদের আরবি পড়াতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর ওই মসজিদে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। সে নিয়মিত মসজিদটিতে আরবি পড়তে যেত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে শিশুটিকে মসজিদে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন মুছা মিয়া। এ সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে একইভাবে ১ ও ২ ডিসেম্বরও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পরে শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষও।