বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৮৭ কর্মচারীর মানববন্ধন, হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবি

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৮৭ কর্মচারীর মানববন্ধন, হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবি

উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৮৭ জন কর্মচারী মানববন্ধন করেছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়লাখনির আবাসিক গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ও বাতিল করে উচ্চ আদালতের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও রায় থাকা সত্ত্বেও খনি কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে আদালতের রায় দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম শাহ, দীপঙ্কর সাহা মানিক, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম, হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক, ১২৮৮/২০১৮ মামলার রায় বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ, মোশারফ হোসেন, এরশাদ বুলবুল প্রামাণিক, শ্রমিক-কর্মচারী মাহাবুব, ১৩ গ্রামের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মচারী তোফায়েল হোসেন বলেন, তারা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। কয়লাখনির জন্য জমি অধিগ্রহণের কারণে তাদের অনেকেই বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং পূর্বপুরুষের কবরস্থান হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ১৫ মে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রাখা হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তোফায়েল হোসেনের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার মাধ্যমে আবারও তাদের বঞ্চিত করে বহিরাগতদের নিয়োগের চেষ্টা চলছে। তার দাবি, বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি এবং হাইকোর্টের রিট পিটিশন নম্বর ১২৮৮/২০১৮-এর রায়ের আলোকে পিটিশনারদের স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনি ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তবে কর্মচারীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম বলেন, ‘নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে আমার কিছু করার নেই।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ওই মুহূর্তে একটি মিটিংয়ে আছেন।

মানববন্ধন থেকে কর্মচারীরা চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ও বাতিল করে হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর