আমন ধান কাটার পরপরই জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কৃষক ও কৃষিশ্রমিকেরা। মাঠজুড়ে চলছে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সেচ ও পরিচর্যার কাজ। এরই মধ্যে কিছু আগাম জাতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বোতলাগাড়ি ও বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। লাভের আশায় এক কৃষককে দেখে অন্য কৃষকও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে বেড়েছে কৃষিকাজের ব্যস্ততা।
কৃষকেরা জানান, শাকসবজি চাষের বিস্তার ঘটায় কৃষিশ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। সৈয়দপুরের কাশিরাম ইউনিয়নের কৃষক আজমত আলী বলেন, সবজি আবাদ ঘিরে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে নারী কৃষিশ্রমিককে দৈনিক ৩৫০ টাকা এবং পুরুষ শ্রমিককে ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে বোতলাগাড়িতে শাকসবজির আবাদ তুলনামূলক বেশি। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এ কারণে ইউনিয়নটি এলাকায় সবজি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের কাছে সবজি চাষ এখন আয়ের অন্যতম উৎস। সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের ফলে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন অসংখ্য কৃষিশ্রমিক। নিয়মিত সবজি বিক্রির আয় তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে মাঠে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, লাউ, করলা, কাঁচামরিচ, বরবটি, পালংশাক, নাপাশাক ও লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কোথাও সেচ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও গাছে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে আগাছা পরিষ্কার ও অন্যান্য পরিচর্যা। উৎপাদিত সবজি সৈয়দপুরের বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন কৃষকেরা। অনেক পাইকার সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনে ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ জানান, আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আগাম সবজি রোপণে নেমেছেন কৃষকেরা। মাঠপর্যায়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো ফলন ও বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল জানান, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আগাম আমন ধান কাটার পর কেউ জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ শুরু করেছেন শাকসবজি চাষ। এতে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি। তিনি বলেন, আগাম আলু চাষে নীলফামারী জেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইভাবে সৈয়দপুরে আগাম জাতের শাকসবজি উৎপাদনও জেলার কৃষি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।