শিরোনাম
ডিলারের বিক্রি বন্ধ

বোদায় পাচারের সময় ১২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ

বোদায় পাচারের সময় ১২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবৈধভাবে সরকারি সার পাচারের অভিযোগে ১২০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারসহ একটি মাহিন্দ্র গাড়ি জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় নুরনবী এন্টারপ্রাইজ নামে এক সার ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করে ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সাতখামার এলাকায় অভিযান ও তদন্ত শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম এ দণ্ডাদেশ দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে সাতখামার এলাকায় বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার নুরনবী এন্টারপ্রাইজের গুদাম থেকে ১২০ বস্তা ডিএপি সার একটি মাহিন্দ্র গাড়িতে তোলা হয়। পরে সারগুলো পাশের আটোয়ারী উপজেলায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলরসহ কয়েকজন বাসিন্দা গাড়িটি আটক করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বোদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারসহ গাড়িটি জব্দ করে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

পরে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্বিক তদন্ত শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সার অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ডিলারশিপ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জু ইসলাম, স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ১২০ বস্তা ডিএপি সার পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি কিংবা অবৈধভাবে পাচারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারের অনিয়ম ও কারসাজি ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান এবং নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

একই পরিবারের নামে দুটি ডিলারশিপের অভিযোগ

এদিকে সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই পরিবারের সদস্যদের নামে দুটি ডিলারশিপ পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নুরনবী এন্টারপ্রাইজ ও তানিম এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি সার ডিলারশিপ একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে দুটি ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের জানা থাকার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

 

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর