শিরোনাম

ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ৯৫১ কোটি, সংকটে শ্রমিক-ব্যবসায়ী

ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ৯৫১ কোটি, সংকটে শ্রমিক-ব্যবসায়ী

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল আছে, চলছে পণ্য ওঠানো-নামানো ও কাস্টমসের কার্যক্রম। তবে বন্দরের সড়কের পাশে বসে থাকা অনেক শ্রমিকের হাতে কাজ নেই। কখন ট্রাক আসবে, কখন মিলবে দিনভর আয়ের সুযোগ—সেই অপেক্ষায় কাটছে তাঁদের সময়।

বন্দরসংশ্লিষ্ট শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, একসময় প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০টি ট্রাক এ বন্দরে আসত। এখন ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজও কমেছে। আয় কমেছে শ্রমিক, চালক ও হেলপারদের। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন ব্যবসা, গুদাম, খাবারের হোটেল ও ছোট দোকানপাটেও।

অথচ ভোমরা স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চলছে সম্প্রসারণের উদ্যোগ। নতুন জমি অধিগ্রহণ, পার্কিং ইয়ার্ড, শেড ও ওয়্যারহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পণ্য ব্যবস্থাপনা দ্রুত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

কিন্তু বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বন্দরের আমদানি কমেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন। রপ্তানি কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন। একই অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা। বন্দর সম্প্রসারণের প্রস্তুতির মধ্যেই বাণিজ্যের এই পতন প্রশ্ন তুলেছে—ভোমরার সংকট কি শুধু অবকাঠামোর, নাকি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পণ্যের বাজার, ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ডলারের সংকট এবং দুই দেশের বাণিজ্যনীতিও?

আমদানি-রপ্তানিতে বড় পতন

ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টনে। এক বছরে আমদানি কমেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন।

রপ্তানিতে পতন আরও বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভোমরা দিয়ে ভারতে ২৮ লাখ ৬ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ টনে। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন।

কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৮৯টি ট্রাকে পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

বাণিজ্যের এই পতনের প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোমরা কাস্টম হাউসের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের হার ৫৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এরপরও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।

ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, রাজস্ব কমার পেছনে শুধু আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া দায়ী নয়; কী ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কেমিক্যাল, ফেব্রিকস ও তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট তুলনামূলক বেশি শুল্কের পণ্য আগের তুলনায় কম আসছে। পাশাপাশি বন্দরের কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

অর্থাৎ, আমদানির পরিমাণ বাড়লেও পণ্যের ধরন অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কম হতে পারে। কম শুল্কের পণ্যের আমদানি বেশি হলে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় না-ও পৌঁছাতে পারে।

বাজার, এলসি ও ডলারের সংকট

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভোমরা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার তুলনায় অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতি, পার্কিং ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদামের সীমাবদ্ধতায় পণ্য খালাস এবং পরিবহনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কয়েকটি কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। এর পাশাপাশি ভারী ক্রেন, ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদামসুবিধার সীমাবদ্ধতাও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁর মতে, শুধু পণ্য আমদানির অনুমতি বাড়ালেই হবে না; আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, বাণিজ্য কমার কারণ শুধু বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে খুঁজলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যনীতি, বিভিন্ন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ, এলসি খোলার পরিস্থিতি এবং ডলারের সংকটও আমদানি-রপ্তানিতে প্রভাব ফেলছে।

ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, দুই দেশের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব সীমান্ত বাণিজ্যে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দর সচল রাখতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। পণ্যের বাজারচাহিদা, আমদানিকারকদের অর্থায়ন, শুল্কনীতি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রসারণে ৪৪ একর জমি

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটাতে ভোমরা স্থলবন্দর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরের জন্য ৪৪ দশমিক ২৬০৮ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন চেয়ে ২০২৫ সালের ৬ মে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। নতুন জমি যুক্ত হলে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে বন্দরের মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬৮ দশমিক ০৫০৬ একর বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৩৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বলেও প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রসারিত এলাকায় পার্কিং ইয়ার্ড, শেড, ওয়্যারহাউস ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের সহকারী কাস্টমস কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউসে উন্নীত করা এবং কমিশনার পদায়নের পর পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তাঁর ভাষ্য, বন্দরে ক্রেন, ওয়্যারহাউস ও শেড নির্মাণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষিপণ্যসহ গাড়ির যন্ত্রাংশ, চ্যাসিস, কেমিক্যাল ও ফেব্রিকস আমদানি বাড়তে পারে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন অবকাঠামো নির্মিত হলে ট্রাক রাখার জায়গা, পণ্য সংরক্ষণ এবং ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা বাড়বে। বন্দরের ভেতরে ট্রাকের চাপ কমানোর পাশাপাশি পণ্য ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে জমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র আহ্বানের পর নির্মাণকাজ শেষ করে স্থাপনাগুলো কার্যকরভাবে চালু করাই হবে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা, যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা ও রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্যোগ

বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভোমরায় ডিজিটাল বিলিং, স্বয়ংক্রিয় ম্যানিফেস্ট এন্ট্রি এবং পূর্ণাঙ্গ পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ব্যবস্থা চালু হলে নথিপত্রের কাজ দ্রুত করা এবং পণ্য চলাচলের তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার কথা।

ভোমরা কাস্টম হাউসকে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউসে উন্নীত করায় স্থানীয় পর্যায়ে শুল্কায়ন ও নথি যাচাইয়ের সুযোগ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা।

তবে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেই বন্দরের সব সমস্যা দূর হবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত পার্কিং, পণ্য সংরক্ষণের জায়গা, ভারী মালামাল ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতি এবং দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে পুরো প্রক্রিয়ায় গতি আসবে না। নতুন অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা যাচাই এবং ট্রাক প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করাও জরুরি।

কাজের সংকটে সাড়ে ছয় হাজার শ্রমিক

বন্দরের বাণিজ্য কমার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। ভোমরা স্থলবন্দরে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন কিরণ বলেন, বন্দরের দুটি শ্রমিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এখানে সরাসরি যুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার।

তিনি জানান, আগে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০টি ট্রাক আসত। তখন পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত। এখন ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না।

বন্দর এলাকার হ্যান্ডলিং শ্রমিক কামরুল ইসলাম বলেন, কাজ কমেছে, মজুরিও কমেছে। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। অনেক শ্রমিক কাজের সন্ধানে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন।

বন্দরের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকদের আয়ই কমছে না; কমছে ট্রাকের ট্রিপ, চালক-হেলপারদের কাজ এবং গুদাম ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার লেনদেনও। চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল, গাড়ি মেরামতের গ্যারেজ ও যন্ত্রাংশের দোকানের মতো ছোট ব্যবসাও ট্রাক ও শ্রমিকদের চলাচলের ওপর নির্ভরশীল।

বন্দর এলাকার চায়ের দোকানি আরিজুল ইসলাম জানান, আগের তুলনায় ক্রেতা কমেছে। অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় চা পান করেও দাম দিতে পারেন না। ফলে দোকানে আগের মতো ভিড় নেই, আয়ও কমেছে।

সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে: কাস্টমস

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের সেবার মান বাড়ানো, হয়রানি কমানো এবং দ্রুত পণ্য খালাসের বিষয়ে কাস্টমস কাজ করছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। সেখানে তাঁদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বন্দরের কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন।

কাস্টমসের উদ্যোগের পাশাপাশি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং বাণিজ্য বৃদ্ধিতে প্রত্যাশিত ফল কতটা আসছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম সুবিধা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ বন্দর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে ভৌগোলিক সুবিধা থাকলেই বাণিজ্য বাড়ে না। আমদানি করা পণ্যের বাজারচাহিদা, এলসি খোলার সুযোগ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান প্রয়োজন। একইভাবে রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম, বিদেশি বাজারে চাহিদা এবং দুই দেশের বাণিজ্যনীতিতে স্থিতিশীলতা জরুরি বলে মনে করেন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান।

তিনি বন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দ্রুত শুল্কায়ন এবং ট্রাকের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মতে, ভোমরার সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রসারিত জমিতে পার্কিং ইয়ার্ড, শেড ও ওয়্যারহাউস নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে হবে। বাড়াতে হবে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি। একই সঙ্গে ট্রাক প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা, কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল কার্যক্রম কার্যকর করা এবং এলসি ও ডলারসংক্রান্ত জটিলতা কমাতে সরকারি ও ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।

বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনাও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা স্থলবন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবিকা ও সীমান্ত এলাকার অর্থনীতির একটি বড় অংশ। তাই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার, বাণিজ্য বৃদ্ধির বাধা দূর করা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখাও জরুরি।

নতুন জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্র এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। এখন বড় প্রশ্ন—এসব উদ্যোগ কি শুধু বন্দরের আয়তন বাড়াবে, নাকি পণ্য চলাচল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানেও গতি আনবে? ভোমরার সামনে চ্যালেঞ্জ তাই শুধু বন্দর সম্প্রসারণ নয়; বাণিজ্য ফিরিয়ে এনে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোও।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর