ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম, জাল ভোট, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জামায়াত এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।
বিকেলে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা নির্বাচনে কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।
জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও ফলাফলে ভোটের হার বেশি দেখানো হয়েছে। দলটির দাবি, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষে ভোট না দিলে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন।
এ ছাড়া ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।