বিয়ের আগের দিন
বাড়িতে বিয়ের আয়োজন, শুক্রবার বিয়ে, পরদিন বৌভাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। কিন্তু আনন্দঘন আয়োজন মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। বিয়ের ঠিক আগের দিন মারা যান ২২ বছর বয়সী আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক।
সৌমিক ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত অনুযায়ী, তিনি চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে তাঁকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার পর বিকেলে আবারও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
সৌমিকের এই মৃত্যু ডেঙ্গু জ্বরকে অবহেলা না করার বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে। জ্বর হলেই অনেকে কয়েক দিন অপেক্ষা করেন, নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ শনাক্ত ও যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার এক ভিডিওবার্তায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে করণীয়
১. দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ: জ্বরের প্রথম দিকে চিকিৎসকের পরামর্শে এনএস১ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেও ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা জরুরি।
২. পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি, খাবার স্যালাইন ও অন্যান্য উপযুক্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। তবে হৃদ্যন্ত্র বা কিডনির সমস্যা থাকলে তরল গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। পেঁপের রস বা কোনো বিশেষ খাবার ডেঙ্গুর নিশ্চিত চিকিৎসা নয়।
৩. শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ: রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তের হেমাটোক্রিট, প্লাটিলেটসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দিয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না; রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বিপৎসংকেত দেখা দিলে হাসপাতালে যেতে হবে: তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা বা চেতনা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়: জ্বরের জন্য অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা এ ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কোন ওষুধ নিরাপদ, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
সৌমিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত না হলেও ঘটনাটি জ্বরকে অবহেলা না করার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং বিপৎসংকেত চিনতে পারা ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।