দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপপরিচালক এম এম শাব্বির হাসানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে মামলা করে আলোচনায় আসা এই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করে দুদক। এতে স্বাক্ষর করেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন থেকেই পুনর্বহালের আদেশ কার্যকর হয়েছে। ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পর চাকরিতে ফিরলেন শাব্বির হাসান।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ আদালত চলতি বছরের ২১ মে শাব্বির হাসানকে বেকসুর খালাস দেন। আদালতের ওই রায়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলার অভিযোগ থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। একই সঙ্গে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় আদালতের রায় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল না করার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এরপর শাব্বির হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার দায় থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের পুরো সময়কে তাঁর কর্মকাল হিসেবে গণ্য করা হবে।
এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুদকের কমিশন সভায় শাব্বির হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই শাস্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়।
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২১ মে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ আদালতের রায়ে তিনি খালাস পান। এরপর আদালতের রায় ও বিভাগীয় মামলার বিষয় পর্যালোচনা করে তাঁকে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল দুদক।