নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাটকাঠি ও ফুল দিয়ে ঝাড়ু তৈরি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন উদ্যোক্তা ফাইয়াজুল হক সাজু। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা কারখানায় তৈরি ঝাড়ু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এবার এসব ঝাড়ু বিদেশে রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তাঁর এ উদ্যোগ দেখে ক্ষুদ্র হস্তশিল্প গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন অন্যরাও।
সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়ায় অবস্থিত কারখানাটির নাম ‘আরব ট্রেডার্স অ্যান্ড কুটির শিল্প’। এর উৎপাদিত পণ্যের নাম ‘গ্রাম বাংলা ঝাড়ু’। প্রতিষ্ঠানটি ‘আর এস এন্টারপ্রাইজ’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ফাইয়াজুল হক সাজু বাংলাদেশ রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক।
কারখানাটিতে প্রতিদিন বিভিন্ন আকার ও নকশার প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ঝাড়ু তৈরি হয়। এতে ৭ থেকে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষ, যাঁরা কাজের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।

কারখানার প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছেন সৈয়দপুর শহরের বাঙালিপুর নিজপাড়া এলাকার মো. লিটন সরকার (৫৫)। তাঁর দুই ছেলে পারভেজ (২৮) ও মনিরুল ইসলাম (১৮) তাঁকে সহযোগিতা করেন। তাঁরা ঝাড়ুর হাতলে পাটকাঠি লাগানো ও তার দিয়ে বাঁধার কাজ করেন। এ ছাড়া পাটকাঠি থেকে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করেন পুতুল (৩৮) নামের এক নারী। আরও চারজন কর্মী তার ও কচটেপ পেঁচিয়ে ঝাড়ু তৈরির কাজ সম্পন্ন করেন।
উদ্যোক্তা ফাইয়াজুল হক সাজু বলেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানা থেকে ফেলে দেওয়া ঝুট কাপড় এনে সৈয়দপুরে পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক, ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাজু বলেন, নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে কুমিল্লায় ঝাড়ু তৈরির কারখানা দেখে এবং সেখান থেকে কাজ শিখে সৈয়দপুরে এ কার্যক্রম শুরু করেন। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে ফুল সংগ্রহ করে স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে ঝাড়ু তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মহীন ও দরিদ্র যুবকদের কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। এতে তাঁদের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঝাড়ু তৈরিতে পাটকাঠি ব্যবহার করায় কৃষকের ফেলে দেওয়া উপকরণও কাজে লাগছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে তুলনামূলক কম দামে ঝাড়ু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। আগে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে ঝাড়ু এনে আকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হতো। বর্তমানে তাঁদের তৈরি ঝাড়ু ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা কম দামে পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন বলে দাবি তাঁর।
সাজুর ভাষ্য, সৈয়দপুরসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তাঁদের তৈরি ঝাড়ু বিক্রি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও পণ্য উৎপাদন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা করতে চান তিনি। উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরির উদ্যোগও চলছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে তাঁদের তৈরি ঝাড়ু রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, সারা বছর এ পণ্যের চাহিদা থাকায় ব্যবসাটিতে সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিকের জেলা কর্মকর্তা মো. নূরেল হক বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ু তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে এবং উদ্যোক্তারা ভালো করছেন। এ খাতে উদ্যোক্তারা সহযোগিতা চাইলে বিসিকের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে বিসিক।